চোখ ভালো রাখার চাবিকাঠি! নিয়মিত কিছু অভ্যাস ও যত্নের মাধ্যমে কিভাবে চোখের যত্ন নেবেন?

আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে চোখ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রয়োজনীয় অঙ্গ। চোখের মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিস দেখতে আমরা পেয়ে থাকি। দৃষ্টিশক্তির অভাব হলে একজন মানুষের দেখার সমস্যা দেখা যায়। বয়স হলে চোখের ছানি পরে যার মাধ্যমে বয়স্কদের চোখে দেখতে সমস্যা হয়। চোখে ছানি পড়লে তার অপারেশন করা খুব জরুরী কিন্তু অনেক ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না তার চোখে ছানি পড়েছে। যার ফলে অনেকটা দেরি হয়ে যায় এবং চোখের লেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চোখের ছানি দীর্ঘদিন থাকলে আপনার চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। চিরজীবনের মতন আপনার দৃষ্টি শক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আজকের এই প্রতিবেদনে ছানি পড়ার প্রাথমিক লক্ষণ এবং কোন সময় আপনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন, কিভাবে এর চিকিৎসা করবেন সমস্ত কিছুই জানানো হলো।
প্রথমেই জেনে নেওয়া দরকার ছানি কি?
ছানি চোখের এমন একটি পর্যায়, যেখানে চোখের মধ্যে থাকা স্বাভাবিক লেন্স ঘোলাটে হয়ে যায়। এই লেন্স ঘোলা হয়ে গেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীন হয়ে যায়। ছানি ঘোলাটে হয়ে যাওয়ার অবস্থা একেবারে হয়না। এটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। প্রথমদিকে লেন্সের কিছুটা অংশ ঘোলাটে হতে থাকে এবং পরে তার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং সম্পূর্ণ লেন্সগুলোতে হয়ে গেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যখন লেন্সের ঘোলাটে অবস্থা প্রথম দিকে দেখা যায় তখন কোন রকম লক্ষণ সেভাবে প্রকাশ পায় না।
ছানি পড়ার প্রাথমিক লক্ষণ:
ছানি পড়ার প্রাথমিক লক্ষণ হল আবছা দৃষ্টি আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা, রাতের দিকে চোখে দেখার অসুবিধা পরিলক্ষিত হয়। এইরকম কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেলে চোখের ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী চশমা নেওয়া ও ছানির অপারেশন করা উচিত। যদি এটি আপনি ফেলে রাখেন তাহলে দৃষ্টিশক্তির হ্রাসের মতন ঘটনা ঘটতে পারে। ছানি শনাক্ত বলে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করার উচিত এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।
ছানি কেন পড়ে?
চোখের মণি ও আইরিশ এর পেছনে স্বচ্ছ একটি লেন্স থাকে। যদি এই লেন্সটি ধীরে ধীরে ঘোলাটে বা অসচ্ছ হতে থাকে তাহলে আলো সঠিকভাবে চোখের প্রবেশ করতে পারে না। এর ফলে দৃষ্টিশক্তি আবছা বা অস্পষ্ট হয়ে যায়। ছানি সাধারণত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং উভয় চোখেই ছানি হতে পারে।
যদিও ছানি হওয়ার প্রবণতা বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই কম বয়সিদের এই বিষয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই। তবে বার্ধক্য এলে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা উচিত।
ছানি একটুখানি বৃদ্ধি পেলে যে অস্বস্তি গুলি হয় তার মধ্যে হল:
১) ঝাপসা ও অস্পষ্ট দৃষ্টি
২) হালকা আলোতে দৃষ্টিহীনতা
৩) লেখা পড়তে অসুবিধা ও মানুষের মুখ ঝাপসা লাগা।
৪) দূরের জিনিস দেখতে অসুবিধা হওয়া
৫) আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা
৬) রাতে দেখতে অসুবিধা হলে গাড়ি চালানো বিপদজনক হতে পারে।
চোখের ছানি একদম অবনতি ঘটলে রং চেনাতে অসুবিধা হয়। রং বিবর্ণ বা হলদে দেখাতে পারে। কিছুটা একই রকম দেখতে রংয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে অসুবিধা হতে পারে।
ছানি পড়ার কারণ:
১) বার্ধক্যজনিত কারণে পরে বেশির ভাগ সময়। বিশেষ করে ৪০ বা ৪৫ বছরের পর থেকে ছানি পড়ার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। লেন্সের প্রোটিনের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে গেলে এমনটি হয়ে থাকে।
২) ডায়াবেটিসের কারণে অর্থাৎ রক্তের শর্করার উচ্চমাত্রা থাকলে লেন্সের ক্ষতি হয় এবং ছানি পড়ে।
৩) দীর্ঘক্ষণ সূর্যের আলো চোখের মধ্যে পড়লে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে লেন্সের ক্ষতি হয় এবং ছানি পড়ার একটি অন্যতম কারণ এটি।
৪) ধূমপান করলে চোখের চাপ বাড়ে এবং যা ছানি পরার অন্যতম কারণ।
৫) শারীরিক আঘাত বা চোখে আঘাতের কারণ হয় চোখের লেন্সের ক্ষতি হতে পারে এবং ছানি পড়তে পারে।
কীভাবে ছানি নির্ণয় করা হয়?
একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ চোখের পরীক্ষার মাধ্যমে ছানি নির্ণয় করে থাকেন। চোখের পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় একজন ব্যক্তি কতটা দূর থেকে স্পষ্ট লেখা পড়তে পারছেন বা দেখতে পাচ্ছেন।
চোখের রেটিনা পরীক্ষা করা হয়।
প্রতিকার: প্রাথমিক পর্যায়ে ছানি অপারেশনের দরকার পড়ে না। চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা করার পর নতুন চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স দিয়ে থাকেন। কিন্তু যদি ছানি অনেকটাই বেশি হয়ে যায় তাহলে ছানি অপারেশনের করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে যখন দৈনন্দিন কাজ করার খুবই সমস্যা হয় তখন অস্ত্রপাচার করা দরকার হয়ে পড়ে। ছানি অপরেশন করা হলে ঘোলাটে লেন্স অপসারিত করে কৃত্তিম লেন্স ব্যবহার করা হয়। এবং খুব নিরাপদ ভাবে এটি করা হয়। তারপর কালো চশমা দেওয়া হয় কিছুদিনের জন্য। খুব শীঘ্রই দ্রুত সেরে ওঠা যায় বা আগের মতন পরিষ্কার ও স্পষ্ট দেখা যায়।
চোখ এমন একটি অঙ্গ যেটি আমাদের দেখার কাজ করে। প্রকৃতির শোভা ও লেখা পড়তে ও মানুষ চিনতে আমাদের এই চোখ খুবই কার্যকরী অঙ্গ। এই অঙ্গের ক্ষতি হলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে পারে, যার ফলে চোখে দেখার ক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে ফেলতে হয়। এই জন্য চোখের দৃষ্টিশক্তি অল্প আবছা হতে থাকলে এবং দেখার অসুবিধা হলে অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হয় এবং তার কথা অনুযায়ী চশমা ব্যবহার করা নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করা এবং ছানি অপারেশনের দরকার পড়লে সেটি করে নেওয়া উচিত।
Read more: চুল পড়ার সমস্যা ও তার ঘরোয়া সমাধান, চুলের প্রত্যেক সমস্যার জেনে নিন সহজ উপায়!
